দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে রোগটির প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
আক্রান্তদের স্বজনরা জানান, শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশির মাধ্যমে রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। কয়েক দিন পর শরীরে লালচে র্যাশ বা গুটি উঠছে। সদর হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক বলেন, ‘প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে গুরুত্ব দেইনি। পরে শরীরে দানা ওঠায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।’
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা করে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করছেন।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে আলাদা রাখতে হবে। পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য দিলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মানলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।’
জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
এমএস/